টিআইবির রিপোর্টে সরকার মুখ লুকাতে পারছে না: রিজভী

  • ১৬-জানুয়ারী-২০১৯

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত রিপোর্টে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আঁতে ঘা লেগেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, সরকারের সর্বব্যাপী নিয়ন্ত্রণের ঘন অন্ধকার ভেদ করে টিআইবি রিপোর্টে ভোট ডাকাতির মহাসত্য প্রকাশ হওয়াতে সরকারের মন্ত্রীরা ও নির্বাচন কমিশন মুখ লুকাতে পারছে না। সেজন্য আর্তচিৎকার করে সত্য লুকানোর চেষ্টা করছে। তবে তাতে কোনো লাভ নেই। মানুষ যা জানার নির্বাচনের আগের দিন রাত থেকেই জেনেছে।

বৃহস্পতিবার  (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের পক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশ বলেছে- এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ। তারা এই ভুয়া ভোটের নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং তদন্ত দাবি করেছে। বিশ্ববাসী এই নির্বাচনকে ইতিহাসের নিকৃষ্ট নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেছে।

ভোট ডাকাতির জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে পদক দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের পুরস্কার দেয়া হবে, যা নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করে রিজভী বলেছেন, জনগণের টাকা ব্যাংক ও সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে লোপাট করে এখন আওয়ামী ক্ষমতাসীনদের আলমারীতে টাকা, লকারে টাকা, তোশকের নিচে টাকা, আর বেশির ভাগ উড়ে গেছে বিদেশে টাকা। চারিদিকে তাদের গিজগিজ করছে টাকা। তাই নিশীথ রাতে ভোটের তেলেসমাতির হোতাদের মোটা অংকের উৎকোচ ও ভুড়িভোজের পাশাপাশি এখন বীরত্বের পদক দেয়া হবে বলগাহীন উচ্ছ্বাসে। অর্থাৎ ভোট ডাকাতির জন্য এবার রাষ্ট্রীয়ভাবে পদক দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের পুরস্কার দেয়া হবে, যা নজিরবিহীন।

রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনার কথন, বলন সবই নজিরবিহীন। শেখ হাসিনার পুলিশ-র‌্যাবের ভোট ডাকাতির দক্ষতা নজিরবিহীন। তাঁর সরকারের মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের অম্লানবদনে ডাহা মিথ্যা কথা বলা নজিরবিহীন। বিরোধীদের প্রতি শেখ হাসিনার রণং দেহী ভাব নজিরবিহীন। শেখ হাসিনার স্বৈরশাসনে আদালত, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের তথাকথিত নিরপেক্ষতার গুঞ্জন নজিরবিহীন। কথায় কথায় বিরোধী দলের প্রতি ধমক ও হুমকি নজিরবিহীন। ভোটারদের ভোট-বঞ্চনা করতে দীর্ঘ সময়ব্যাপী পরিকল্পনা নজিরবিহীন। নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে খর্ব করার জন্য ‘ড্রাকোনিয়ান’ আইন তৈরি করা হয়েছে যা নজিরবিহীন।’

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভোট ডাকাতির মাধ্যমে বিজয়ী হওয়ার পর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে শুরু করে থানায় থানায় উৎসব চলছে মন্তব্য করে প্রশ্ন রেখে রিজভী বলেন, ‘কেন এই উৎসব? এখন তাদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পদক দেয়া হবে কেন, এগুলো জাতি তা জানতে চায়। এটা কি গায়েবি মামলার পুরস্কার? মৃত ব্যক্তিকে আসামি করার পুরস্কার? বিরোধী দলের নেতাকর্মীদেরকে জেলে ঢোকানোর পুরস্কার? বিরোধী নেতাকর্মীদেরকে এলাকা ছাড়া করার পুরস্কার? বিরোধী দলকে নির্বাচনী মাঠে নামতে না দেয়ার পুরস্কার? পোস্টার লাগাতে না দেয়ার পুরস্কার ? ধানের শীষের প্রার্থীদের গুলি করা, হামলা করা, জেলে ঢোকানোর পুরস্কার? ধানের শীষের এজেন্টদের গ্রেফতার করা, কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, মারধর করার পুরস্কার? সর্বোপরি ভোটের আগের রাতে ভোটকেন্দ্র দখলে নিয়ে প্রিজাইডিং অফিসারদেরকে বাধ্য করে রাতভর ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করার পুরস্কার? বাংলাদেশ থেকে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার কৃতিত্বের জন্যই পুরস্কার দেয়া হচ্ছে বলে জনগণ বিশ্বাস করে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থতার কারণে গতকাল আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘নজিরবিহীনভাবে তাঁকে কারাগারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। এই আটকিয়ে রাখার পেছনে ব্যক্তির প্রতিহিংসা পূরণের সাধ মেটানো হচ্ছে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তাঁর সুচিকিৎসার জন্য পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে কোনো আবেদনই কারা কর্তৃপক্ষ রক্ষা করেনি, বরং সরকারের প্ররোচণায় কারা কর্তৃপক্ষ বেগম জিয়ার অসুস্থতাকে আরও অবনতির দিকে ঠেলে দেয়ারই চেষ্টা করেছে।

 

/কে