মুছে ফেলা হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সকল তথ্য!

  • ১৬-জানুয়ারী-২০১৯

ভোরের পাতা ডেস্ক 

হঠাৎ রাজনীতির খাতা থেকে নিজেদের নাম মুছে ফেলতে তৎপর হয়েছে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জানা যাচ্ছে, এই নামে আর কোন রাজনৈতিক দলই থাকবে না। শিগগিরই আসতে পারে এমন ঘোষণাও। নির্বাচনের পরপর অনলাইনে জামায়াতের সব ধরণের তথ্য সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে। এরইমধ্যে দলের কার্যক্রম নিয়ে যে ওয়েবসাইটগুলো ছিলো তাও মুছে ফেলা হয়েছে। রাজনৈতিক কার্যক্রম ও দাওয়াতি কার্যক্রম নিয়ে আরো বেশ কয়েকটি সাইট থাকলেও এগুলোকেও কেন্দ্র থেকে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে।

সূত্র বলছে, দলের ভেতরে-বাইরে এ নিয়ে চলছে বড় গুঞ্জন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ফের সরকার গঠন করায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কোন নতুন ষড়যন্ত্রে আর কিছু হারাতে চান না তারা। নির্বাচনের পর থেকে এ নিয়ে দেশে এবং দেশের বাইরে ইসলামী দলটির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সাথে চলছে বৈঠক। মেলানো হচ্ছে নানান রাজনৈতিক সমীকরণ।

জামায়াতের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নির্বাচনের পরের সপ্তাহে জামায়াত সংবাদ সম্মেলন করে দল ছাড়ার ঘোষণা করার কথা থাকলেও দলের গঠনতন্ত্রে আমিরের পদত্যাগের বিষয়টি স্পষ্ট না থাকায় সংশোধনে সময় নিচ্ছে। তাছাড়া দলের ভেতরে বড় একটি অংশ শত ঝড়-তুফানের মাঝেও এ নামেই থাকতে চাচ্ছে। তবে নতুনদের বড় একটি অংশ দলের নামে কলঙ্ক ডুবিয়ে নতুন নামে আসতেই অনড় রয়েছে।

এ নিয়ে জামায়াতের কয়েকটি সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জামায়াতের আমির, সেক্রেটারি জেনারেলসহ শীর্ষ নেতাদের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ফাঁসি হওয়ার পর দলটিতে বড় ধরণের নেতৃত্ব শুন্য রয়েছে। তাছাড়া ক্ষমতাসীনদের প্রতিদ্বন্দ্বী এবং বিএনপি জোটে থাকার কারণে রাজনৈতিক আক্রোশের শিকার হচ্ছেন। এছাড়া এ দলের যারা ব্যবসা-বাণিজ্যর সাথে সম্পৃক্ত তারাও দীর্ঘ সময় ধরে আলোর মুখ দেখছেন না। দেশে কাদা ছিটানোর রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে জামায়াত। দীর্ঘ সময় দলীয় আদর্শ প্রচারণাও করতে পারছেন না। তরুণদের থেকেও দাবি উঠেছে প্রশ্নবিদ্ধ লোকদের বিদায় দিয়ে নতুনদের নিয়ে দল গঠন করতে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকার ফের ক্ষমতায় আসায় সব দলের তোপের মুখে জামায়াতে ইসলামী। বিএনপির লজ্জাজনক হারের পরও ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। যদিও বিএনপির বিশ্বস্ত একটি সূত্রের মত, সম্প্রতি কারাগার থেকে খালেদা নির্দেশ দিয়েছেন কোন চাপের মাঝেও জামায়াত ছাড়ার প্রলোভনে যাওয়া যাবে না এবং সংসদে গিয়ে শপথ গ্রহণ করে এই সরকারকে বৈধতা দেয়া যাবে না। এই ইঙ্গিতেও বিএনপিতে আস্থা রাখছেন না জামায়াত। তারা তাদের স্বীয় সিদ্ধান্তে হাঁটছেন। জামায়াত নামে কোন দল না রাখার পক্ষে দলটির নীতিনির্ধারকদের আরও ভাষ্য, বর্তমানে তাদের আন্দোলনের কর্মী থাকলেও রয়েছে রাজনৈতিক নেতৃত্বের শুন্যতা। দীর্ঘ ৮-১০ বছরেও তৈরি হচ্ছে না নতুন কর্মী। দলের  নামে কলঙ্ক আসার পরে অনেকে পদ পেয়ে জামায়াত নামক কোন কাদাও গায়ে লাগাতে চাচ্ছেন না। অন্যদিকে জামায়াতের সংস্কারবাদী নেতাদের ভাষ্য, এর আগে আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক মাস্টার প্ল্যানিং ষড়যন্ত্রে তারা তাদের শীর্ষ নেতাদের হারিয়েছেন। এখন নির্বাচনের পর ফের নতুন কৌশলে ষড়যন্ত্রের আভাস পাচ্ছেন, কী আভাস সেটি না জানালেও ঘটনার মোকাবিলা করার রাজনৈতিক শক্তি নেই বলে মত দলটির।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, জামায়াতে ইসলামীকে জোটে রাখায় বহুদিন থেকে বিএনপি ভারতসহ আন্তর্জাতিক দেশগুলোর চাপে আছে। দেশের বামপন্থী বুদ্ধিজীবীরাও বিএনপি থেকে সরে গেছে। আদর্শিক অনেক দলীয় নেতাকর্মীও জামায়াতকে জোটে রাখায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এছাড়াও ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বিজেপি এবং কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিএনপিকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয়েছে, ভারতের আস্থা অর্জন করতে হলে বিএনপিকে অবশ্যই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ছাড়তে হবে। যে দাবি দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও করে আসছে। এবার বিএনপি হেরে যাওয়ার পেছনে জামায়াতকে ধানের শীষ প্রতীকে এত সংখ্যক আসন দেয়ার কারণকেও পর্যবেক্ষণে নিয়ে আসছেন অনেকে।

সবদিক বিবেচনা করে রাজনৈতিক আক্রমণ থেকে বাঁচতে জামায়াতও এ নামে রাজনীতি থেকে আপাতত সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগে আরও কিছু সময় পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে আরেকটি সূত্র জানায়, জামায়াত নামক দল না থাকার ইঙ্গিতের পরই অনলাইন থেকে জামায়াতের সব ধরণের ডকুমেন্ট সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে।